মঙ্গলবার । ৯ই জুন, ২০২৬ । ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইল নরওয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা কাকে সমর্থন করবেন—সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে এগিয়ে এসেছে ঢাকায় নরওয়ে দূতাবাস। নিজেদের ফেসবুক পেজে মজার ছলে বাংলাদেশিদের নরওয়েকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে রয়্যাল নরওয়েজিয়ান এমবাসি ইন ঢাকা।

পোস্টের শুরুতেই দূতাবাস লিখেছে, বাংলাদেশিদের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়েকে সমর্থন করা উচিত। কেন? সেই যুক্তিও দিয়েছে তারা—ফুটবল ছাড়াও বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে অনেক মিল আছে, হয়তো প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।

নরওয়ে দূতাবাসের পোস্টে দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নরওয়ে ছিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি। দুই দেশের আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের জায়গাতেও মিল আছে বলে উল্লেখ করেছে দূতাবাস—শান্তি, মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা ও জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশ ও নরওয়ের অবস্থানকে কাছাকাছি বলেছে তারা।

দূতাবাসের ভাষায়, দুই দেশের সম্পর্ক সম্মান, ইতিহাস ও বন্ধুত্বের ওপর দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশ যেহেতু এবারের বিশ্বকাপে খেলছে না, তাই ২৮ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফেরা নরওয়ে হতে পারে বাংলাদেশিদের সমর্থনের উপযুক্ত দল।

পোস্টে শুধু কূটনীতি নয়, হালকা রসবোধও ছিল। নরওয়ে দূতাবাস লিখেছে, বাংলাদেশ ও নরওয়ে দুই দেশই নদী, সমুদ্র ও উপকূলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দুই দেশের মানুষের মাছের প্রতিও ভালোবাসা আছে। ফেয়ারনেস বা ন্যায্যতার কথাও তুলেছে তারা—আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন বা ফুটবল মাঠ—সব জায়গাতেই ন্যায্যতার মূল্য দুই দেশই বোঝে বলে পোস্টে বলা হয়েছে।

আরেকটি মিল হিসেবে দূতাবাস বলেছে, দুই দেশই নিজেদের মতো করে ছোট। বাংলাদেশ আয়তনে তুলনামূলক ছোট, আর নরওয়ে জনসংখ্যায় ছোট। তবে দুই দেশই বৈশ্বিক মঞ্চে বড় স্বপ্ন দেখে।

শেষ যুক্তি হিসেবে এসেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় নামগুলোর একটি—আর্লিং ব্রট হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকার নরওয়ের বিশ্বকাপ স্বপ্নের সবচেয়ে বড় মুখ। ২৮ বছর পর নরওয়ের বিশ্বকাপে ফেরার পেছনে তাঁর গোলের বড় ভূমিকা আছে।

নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। হলান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডদের প্রজন্মকে নিয়ে দলটি এবার নিজেদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখতে চায়। সেই স্বপ্নযাত্রায় বাংলাদেশি সমর্থকদেরও পাশে চেয়েছে ঢাকার নরওয়ে দূতাবাস।

পোস্টের শেষে দূতাবাসের আহ্বান ছিল সহজ—বাংলাদেশ, এবার আন্ডারডগদের পাশে দাঁড়ানোর সময়। একসঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখার সময়।

বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশে সাধারণত আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থন নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়। তবে এবার সেই আলোচনায় মজার কূটনৈতিক রং যোগ করল নরওয়ে। মাছ, সমুদ্র, জলবায়ু, বন্ধুত্ব আর হলান্ড সব মিলিয়ে বাংলাদেশিদের মন জয়ের জন্য বেশ অভিনব প্রচারণাই চালাল নরওয়ে দূতাবাস।

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন